- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
বক্সারের যুদ্ধের কারণ (Causes of Battle of Buxer)
মীর কাশিম ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসলেও তিনি স্বাধীনচেতা মনোভাবের ছিলেন। এজন্য তিনি ইংরেজদের প্রভাব মুক্ত থাকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণই ছিল বক্সারের যুদ্ধের অন্যতম কারণ। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
১। মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা মনোভাব ও কতিপয় প্রস্তুতি: বক্সারের যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা মনোভাব। মীর কাশিম মীরজাফরের ন্যায় পুতুল শাসক হয়ে থাকতে নারাজ ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন আজ হোক আর কাল হোক ইংরেজ কোম্পানির সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সে কারণে তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন। মীর কাশিমের প্রস্তুতির মধ্যে ছিল- (ক) অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করা। এজন্য তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেন। রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পূর্বের বকেয়া অর্থ আদায় এবং অভিজাতবর্গের অবৈধ ভোগকৃত অর্থ ফেরত নেন এবং আলীবর্দী, মীর জাফর ও শেঠ পরিবার থেকে বলপূর্বক প্রচুর অর্থ আদায় করেন। (খ) নিজ শক্তি বৃদ্ধির জন্য বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব প্রদানের অঙ্গীকার করে সম্রাট শাহ আলমের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। (গ) মুর্শিদাবাদ থেকে রাজধানী মুঙ্গরে স্থানান্তর করেন এবং সেখানে গোলাবারুদের কারখানা স্থাপন করেন। (ঘ) ইউরোপীয় তিনজন সেনাপতির সাহায্যে দেশীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এভাবে মীর কাশিমের শক্তি বৃদ্ধি ইংরেজরা সন্দেহের চোখে দেখেন।
২। দেশীয় বণিকদের শুল্ক প্রত্যাহার: ইংরেজ কোম্পানি বিনা শুল্কে আন্তঃবাণিজ্য চালাতে থাকলে কেবল নবাবই বাণিজ্য শুল্ক হতে বঞ্চিত হলেন না, দেশীয় বণিকদেরও ভীষণ ক্ষতি হতে থাকে। দেশীয় বণিকদের ক্ষতির প্রতিকারে অসমর্থ হয়ে নবাব মীর কাশিম ইংরেজ ও দেশীয় নির্বিশেষে সকল ব্যবসায়ীদের উপর হতে বাণিজ্য শুল্ক উঠিয়ে দিলেন। কিন্তু এ ব্যবস্থা ইংরেজদের মনঃপুত হলো না। তারা মীর কাশিমকে পদচ্যুত করে শুধুমাত্র দেশীয় বণিকদের শুল্ক দিতে বাধ্য করার নীতি নেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

