- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব (Importance of the Battle of Buxer)
বক্সারের যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহের মধ্যে অন্যতম। পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কিন্তু অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। এ যুদ্ধে মীর কাশিমের সকল আশা-ভরসা ধূলিস্যাৎ হয় এবং ইংরেজদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
স্যার স্টিফেনের মতে, "উপমহাদেশ ব্রিটিশ শক্তির উত্থানে পলাশীর যুদ্ধ অপেক্ষা বক্সারের যুদ্ধ অধিক গুরুত্বপূর্ণ” এই উক্তিটি যথার্থ। এর সপক্ষে যুক্তি হচ্ছে-
প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধ ছিল ষড়যন্ত্রমূলক কিন্তু বক্সারের যুদ্ধ ছিল প্রকৃত যুদ্ধ। এই যুদ্ধে উভয়ের শক্তি প্রদর্শিত হয়েছে। এ যুদ্ধ ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার শেষ যুদ্ধ।
দ্বিতীয়ত, পলাশীর যুদ্ধের ফলে ব্রিটিশ শাসনের যে সূত্রপাত হয় বক্সারের যুদ্ধে তা পূর্ণতা লাভ করে। ঐতিহাসিক ব্রস বলেছেন, "বক্সারের যুদ্ধের ফলাফলের উপর উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ভরশীল ছিল।" বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের সাথে সাথে বাংলার স্বাধীনতার শেষ আলোটুকু নিভে যায়।
তৃতীয়ত, বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পরই ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণ এবং উপমহাদেশে বাণিজ্যের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
চতুর্থত, বক্সারের যুদ্ধের ফলে মীর কাশিম সিংহাসনচ্যুত হন একং মীরজাফর পুনরায় পুতুল শাসক হিসেবে বাংলার মসনদে বসেন।
পঞ্চমত, এ যুদ্ধের ফলে বাংলার নবাব পদে কে বসবেন এবং নবাব পদ কে হারাবেন তা ইংরেজ কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
ষষ্ঠত, পলাশীর যুদ্ধে কেবলমাত্র বাংলার নবাব পরাজিত হয় কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, অযোধ্যা এবং মোগল সম্রাট এক যোগে পরাজিত হয়।
সপ্তমত, এ যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ায় সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ইংরেজদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
সর্বোপরি এ যুদ্ধে জয়ের ফলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বণিক থেকে শাসকে পরিণত হয়। অর্থাৎ বণিকের মানদণ্ড শাসকের রাজদণ্ডে পরিণত করেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

