• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পলাশী যুদ্ধের গুরুত্ব (The significance of Battle of Palassey)

পলাশীর যুদ্ধের গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াটসন বলেন, "The battle of Palassy was of extraordinary importance not only but to the British National ingeneral" অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজগণ ভূ-সম্পত্তির মালিকানা লাভ করে এবং এর লব্ধ কর কেবলমাত্র কোম্পানির নয় সমগ্র জাতিকে সমৃদ্ধ করে তোলে। নিম্নে পলাশী যুদ্ধের গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো:

১. ভাগ্য নির্ধারিত যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের যুদ্ধ। রায় চৌধুরী, দত্ত ও মজুমদারের মতে, "পলাশীর যুদ্ধ একটি খণ্ডযুদ্ধ ব্যতীত আর কিছুই নয়। কিন্তু এর ফলাফল ছিল অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনা বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিজয়ের সূত্রপাত করে।"

২. ইংরেজদের ক্ষমতা বৃদ্ধি: এ বিজয়ে ইংরেজদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নামেমাত্র নবাব ক্ষমতায় থাকে বাংলার মসনদের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নিযুক্তির ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।

৩. নব-জাগরণের সূত্রপাত: পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলায় রেনেসাঁস বা নব-জাগরণের সূত্রপাত হয়। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ঐতিহাসিক ম্যালসন বলেছেন, "পলাশীর যুদ্ধের মতো আর কোনো যুদ্ধের ফলাফল এত প্রত্যক্ষ, এত বিশাল এবং এত স্থায়ী হতে দেখা যায়না।" ঐতিহাসিক মার্শালের মতে, "পলাশীর যুদ্ধ শুধুমাত্র একটি যুদ্ধ ছিল না, পলাশীর ঘটনা ছিল একটি বিপ্লব।"

৪. আধুনিক যুগের সূচনা: পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের সাথে সাথে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়। ফলে সমগ্র ভারতবর্ষে মধ্যযুগের অবসান হয়ে আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে। ইংরেজদের মাধ্যমে উপমহাদেশে সামরিক সংগঠন, আইনকানুন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাদীক্ষা ও শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এ প্রসঙ্গে স্যার জে. এন, সরকার বলেছেন, ১৭৫৭ এর ২৩ জুন ভারতবর্ষে মধ্য যুগের শেষ হয় এবং আধুনিক যুগ শুরু হয়।

বস্তুত পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজ কোম্পানি এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। এ প্রসঙ্গে প্রফেসর এস আহমদ-এর অভিমত প্রধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ পানিপথের যুদ্ধ (১৫২৬)-এর মতোই স্মরণীয় ও মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা।

পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর প্রান্তে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল তা উড্ডয়ন করতে বাঙালিদের পাড়ি দিতে হয়েছে ২১৩ বছরের রক্ত স্নাত দীর্ঘ পথ। কাজী নজরুল ইসলাম তার 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতায় লিখেছেন-

কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালির খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদের খুনে রাঙিয়া পুনর্বার!!

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ