• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পলাশীর যুদ্ধের ষড়যন্ত্রকারীদের শেষ পরিণতি

পলাশীর যুদ্ধ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী একটি যুদ্ধ। এ যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূত্রপাত হয়। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের পেছনে কতিপয় কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারী জড়িত ছিল। মূলত তাদের ষড়যন্ত্রের কারণেই যুদ্ধে নবাব পরাজিত হয়। নিয়তি এসব ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করেনি। এদেরও শেষ পরিণতি ঘটেছে। নিম্নে পলাশীর যুদ্ধের কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীর শেষ পরিণতি তুলে ধরা হলো-

লর্ড ক্লাইভের আত্মহত্যা: পলাশীর যুদ্ধে বিদেশে ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম হোতা ছিলেন লর্ড ক্লাইভ। ভারতবর্ষে ঘুষ, দুর্নীতি, সম্পদ আত্মসাৎ, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন এবং অপরাজনীতির অপরাধে ইংল্যান্ডের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হন লর্ড ক্লাইভ। ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলে এবং একে একে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হতে থাকলে অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ নভেম্বর নিজের গলায় নিজেই ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বজ্রপাতে নিহত মীর মিরন নিজ মাথায় পবিত্র কোরআন এবং নিজ পুত্র মিরনের মাথায় হাত রেখে মীরজাফর দেশের স্বাধীনতা রক্ষার যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নবাব হওয়ার লোভে সে প্রতিজ্ঞা তিনি রক্ষা করতে পারেননি। যে মিরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই মিরনের মাথায় পলাশীর যুদ্ধের ৩ বছর পর ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুলাই বর্ষাকালে বজ্রপাত নেমে আসে। তাতেই ২১ বছর বয়সে মিরনের জীবন প্রদীপ নিভে যায়।

ঘসেটি বেগমের পরিণতি: পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা মেহেরুন্নেসা ওরফে ঘসেটি বেগম। ষড়যন্ত্রকালীন প্রতিশ্রুত অর্থ না দেওয়া সহ বিভিন্ন কারণে একপর্যায়ে ঘসেটি বেগম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মীরজাফর এবং পুত্র মিরনের সাথে। ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে বন্দি করা হয় ঘসেটি বেগমকে। এখানে বসেও মীরজাফরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকলে মিরন তাকে বন্দি অবস্থায় নৌকাযোগে মুর্শিদাবাদে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘসেটি বেগম কোনোদিনই মুর্শিদাবাদে পৌঁছতে পারেনি। পথেই নৌকা ডুবিতে ঘসেটি বেগমের সলিল সমাধি ঘটে। মুর্শিদাবাদের মাটি তার কপালে জোটেনি।

পাগল অবস্থায় মারা যান উমিচাঁদ দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে আর একজন ছিলেন উমিচাঁদ। শিখ সম্প্রদায়ের উমিচাঁদ (প্রকৃত নাম আমির চাঁদ) কলকাতার একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। মুর্শিদাবাদ কোর্টে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে দালালি করতেন। অর্থ লোভে তিনি ক্লাইভ ও মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে যোগ দেন। পলাশীর যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত করতে পারলে যে সম্পদ পাওয়া যাবে তার ৫ ভাগ দাবি করেন উমিচাঁদ। চতুর ক্লাইভ সম্মত হয়ে এক চুক্তিপত্র করেন। চুক্তিপত্রটির দুটি কপি করা হয়। একটিতে ৫ ভাগ সম্পদ দেওয়ার কথা লেখা থাকলেও মূল কপিতে তা ছিল না।

প্রকৃতপক্ষে মূল কপিটি উমিচাঁদকে দেখানো হয়নি। পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা জানার পর অর্থ শোকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তার সর্ব স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ১০ বছর পাগল অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুমুখে পতিত হন।

জগৎশেঠের শিরশ্ছেদ: অর্থলোভে যিনি ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছিলেন তিনি হলেন জগৎশেঠ। তাঁর প্রকৃত নাম মাহাতাপ চাঁদ। টাইটেল জগৎশেঠ, যার অর্থ পৃথিবীর ব্যাংকার। সুদের কারবারে এত বেশি অর্থের মালিক হয়েছিলেন যে, যার কারণে উক্ত টাইটেল পেয়েছিল। নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে তার ব্যাপক অর্থনৈতিক ভূমিকা ছিল। পলাশীর যুদ্ধের ছয় বছর পর ইংরেজদের কাছে তার লেখা এক ষড়যন্ত্র চিঠি মীর কাশিমের হস্তগত হয়। চিঠি প্রাপ্তির পর মীর কাশিম অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি তার সৈন্যদল নিয়ে জগৎশেঠ এবং তার পরিবারের সকলের শিরশ্ছেদ করেন।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় নদীয়ার শাসনকর্তা ছিলের কৃষ্ণচন্দ্র রায়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় মুসলমানদের শাসনের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাই তিনি ইংরেজদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। যুদ্ধের পর ইংরেজদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও মীর কাশিমের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এই দ্বন্দ্বের রেশ ধরেই কৃষ্ণচন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেন মীর কাশিম।

মীরজাফরের পরিণতি: পলাশীর যুদ্ধে দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন মীরজাফর। পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বিশ্বাসঘাতকতার সাক্ষী হয়ে আছে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর। দু বারে তিনি ৪ বছর নবাব থাকলেও ইংরেজদের অবজ্ঞা এবং দেশবাসীর ঘৃণার পাত্র হিসেবেই বেঁচে ছিলেন। ১৭ জানুয়ারি ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ৭৪ বছর বয়সে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে মীরজাফরের জাগতিক মৃত্যু ঘটলেও তিনি বেঁচে আছেন। মীরজাফরের প্রাসাদে ঢোকার প্রধান ফটকটি ইতিহাসে সরকারি দলিল দস্তাবেজে এবং টুরিষ্ট গাইড বইয়ে 'নেমক হারাম দেউর' বা 'বিশ্বাসঘাতকের গেট' নামে পরিচিতি পেয়েছে। মীরজাফর বেঁচে আছেন তবে একটি জঘন্য গালি হিসাবে।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ