- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
বক্সারের যুদ্ধ-১৭৬৪ Battle of Buxer-1764
পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ক্লাইভের হাত ধরে পুতুল শাসকরূপে বাংলার মসনদে বসেন (১৭৫৭-১৭৬০ খ্রি.)। মীর জাফর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চুক্তি মোতাবেক ক্লাইভকে ২,৩৪,০০০ পাউন্ড, কলকাতার প্রত্যেক সদস্যকে ৫০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পাউন্ড, সেনা ও নৌবাহিনীর প্রধানকে ২৫ লক্ষ টাকা উপঢৌকন, কোম্পানিকে দেড় কোটি টাকা, সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের ক্ষতিপূরণ ও ফরাসিদের বাংলা থেকে বিতাড়ন ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০,০০০ পাউন্ড এবং ২৪ পরগনার জমিদারি স্বত্ব প্রদান করেন। এছাড়া কোম্পানির বিভিন্ন চাহিদা ও বাণিজ্য সুবিধা মেটাতে মুর্শিদাবাদের কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। প্রতিশ্রুতির বাকি অর্থ আসবাবপত্র, মূল্যবান ধাতুনির্মিত বাসনপত্র ইত্যাদি বিক্রি করেও অর্থের সংকুলান না হলে বাকি অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। ইংরেজরা মীরজাফরের মাধ্যমে বাংলার টাকার গাছে নাড়া দিয়ে টাকা কুড়ানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা "Yet rich quickly and go back home" নীতি গ্রহণ করেন।
ইংরেজদের চাহিদা মোতাবেক অর্থ প্রদানে ব্যর্থ ও ওলন্দাজ কোম্পানির সাথে গোপন পত্রালাপের অপরাধে ইংরেজরা মীরজাফরকে সিংহাসনচ্যুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ইংরেজরা গোপনে মীরজাফরের জামাতা মীর কাশিমের সাথে একটি সন্ধি করে (১৭৬০ খ্রি.)। সন্ধি মোতাবেক রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীরজাফরকে সরিয়ে মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে বসালেন (১৭৬০ খ্রি.)। মীর কাশিম ছিলেন গুজরাটের সুবেদার সৈয়দ ইমতিয়াজের পৌত্র। তিনি নবাব আলীবর্দী ও নবাব সিরাজদ্দৌলার সেনাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে মীরজাফরের কন্যা ফাতেমা বেগমকে বিবাহ করে রাজদরবারে প্রভাব বিস্তার করেন। ইংরেজদের সাথে চুক্তি করে ১৭৬০ খ্রিষ্টখ্রিষ্টাব্দে বাংলার নবাব হন। প্রথমেই তিনি চুক্তি মোতাবেক ইংরেজকে প্রাপ্য অর্থের বিনিময়ে বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম প্রদান করেন। এভাবে মীর কাশিম কোম্পানির যাবতীয় পাওনা মিটিয়ে শাসনকার্যে মনোনিবেশ করেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

