- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ইংরেজ কোম্পানির দেওয়ানি লাভ-১৭৬৫ The English Company Gets Dewani-1765
১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম পরাজিত হলে বাংলার সিংহাসনে পুতুল সরকার হিসেবে আবার মীরজাফর আসীন হয়। এক বছরের মাথায় (১৭৬৫) মীরজাফরের মৃত্যু হলে তার নাবালক পুত্র নজিমউদ্দৌলা কোম্পানির আশ্রিতা হিসেবে সিংহাসনে বসেন। প্রকৃতপক্ষে তখন থেকে সমস্ত ক্ষমতা কোম্পানির হাতে চলে যায়।
এ সময় ক্লাইভ দ্বিতীয়বার শাসনভার গ্রহণ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দূর করে স্থিতিশীলতা আনার জন্য বাদশাহ শাহ আলমের নিকট থেকে দেওয়ানি লাভের চেষ্টা করেন। এই লক্ষ্যে ক্লাইভ অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সাথে 'এলাহাবাদের প্রথম সন্ধি' স্থাপন করেন (আগস্ট ১৭৬৫)। এই সন্ধি মতে নবাব সুজাউদ্দৌলা রাজ্য ফিরে পান বিনিময়ে কোম্পানিকে ৫০ লক্ষ টাকা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং কোরা ও এলাহাবাদ অঞ্চলের দেওয়ানি ছেড়ে দেন। এরপর 'এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি' (আগস্ট ১৭৬৫) দ্বারা বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
এই সন্ধি দ্বারা কোরা ও এলাহাবাদ যা কোম্পানি অযোধ্যার নবাবের নিকট থেকে পেয়েছিল তা বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমকে ছেড়ে দেয়। বিনিময়ে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্বের স্বত্ব স্থায়ীভাবে ছেড়ে দেন। এই দেওয়ানি লাভ ছিল কোম্পানির বিরাট বিজয়। এতদিন কোম্পানি মীরজাফর ও মীর কাশিমের সঙ্গে চুক্তি বলে বর্ধমান, মেদিনীপুর, চট্টগ্রাম ও চব্বিশ পরগনার রাজস্ব ভোগ করত। এখন তারা গোটা বাংলার রাজস্বের অধিকারী। কোম্পানি নবাবের কৃপাপ্রার্থী বণিক কোম্পানি থেকে এক লাফে রাজস্বের অধিকারী হয়ে বাংলার উপর প্রকৃত আধিপত্য বিস্তার করে। সুতরাং দেওয়ানি লাভ ছিল কোম্পানির চূড়ান্ত সাফল্য।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

