- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
'লর্ড ক্লাইভের চরিত্র ও কৃতিত্ব The Character and Achievement of Lord Clive
ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তির উত্থানের পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন লর্ড ক্লাইভ। লর্ড ক্লাইভ কোম্পানির সামান্য কেরানি পদে নিয়োগ নিয়ে উপমহাদেশে আগমন করে নিজ মেধা ও বুদ্ধি বলে গভর্নর এবং ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপন করে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তিনি কূটনৈতিক মেধা দিয়ে কর্ণাটকের যুদ্ধে ফরাসিদের পরাজিত করে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ভাগ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ এবং দ্বৈতশাসন প্রবর্তনে রয়েছে। তার অনন্য ভূমিকা। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে তিনি ছিলেন চূড়ামণি। ঘুষ ও দুর্নীতির বরপুত্র লর্ড ক্লাইভের বিরুদ্ধে ভারতে তুমুল আন্দোলন শুরু হলে ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বোর্ড অব ডাইরেক্টর তাকে স্বদেশে ডেকে পাঠান। বঙ্গদেশে জালিয়াতি এবং ঘুষ গ্রহণে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। পার্লামেন্টে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও জনসাধারণের ধিক্কারে অতিষ্ঠ হয়ে ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আত্মহত্যা করেন। কৌশলে অর্থ আত্মসাতে তার জুড়ি ছিল না। তিনিই ছিলেন পলাশী লুণ্ঠনের হোতা। তিনি বলতেন, টাকা চাই আরো টাকা, নষ্ট করার মতো একদম সময় নেই। তিনি কোনো প্রকার নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা ও অর্থ সংগ্রহে নিমগ্ন হন। কার্ল মার্কস তার ভারতীয় ইতিহাসে ক্লাইভকে 'দস্যু চূড়ামণি' আখ্যায়িত করেছেন। বলতে গেলে ভারতবর্ষে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ ক্লাইভই রোপণ করে যান। তার দ্বৈতশাসনের কুফলই ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। তার চরিত্রে বিভিন্ন গুণ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির শিরোমণি হিসেবে তিনি ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে আছেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

